আমাদের কথা
গত কয়েক মাস ধরে একটা প্রশ্ন আমাদের পিছু ছাড়ছিল না:
সওয়াল কবে ‘সত্যিকারের’ ওয়েবসাইট হচ্ছে? বন্ধুরা জিজ্ঞেস করেছেন, পরিচিতরা
করেছেন, পাঠক-দর্শকেরাও। কখনও মজা করে, কখনও সত্যি কৌতূহল থেকে। প্রশ্নটার ছোট সংস্করণ
ছিল আরও সোজা: এখনও ফেসবুকেই?
প্রথম প্রথম হেসে উড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু জানতাম, প্রশ্নটা
চলে যাবে না।
এপ্রিলে সওয়াল শুরু হয়েছিল নেহাৎই একটা ফেসবুক পাতা হিসেবে।
ঘটনাচক্রে, খানিক এলোমেলো ভাবে। তারপর যা হলো, আমাদেরও খানিক অবাক করেছে। কয়েক মাসে
পঁচিশ হাজারের বেশি মানুষ পাতাটির সঙ্গে যুক্ত হলেন, আমাদের পোস্ট পৌঁছল প্রায় তিন
কোটি আলাদা মানুষের কাছে। সংখ্যা যে কিছুই নয় তা নয়। অন্তত বোঝা গেল, লোক দেখছেন, পড়ছেন,
উত্তর দিচ্ছেন, তর্ক করছেন। সেই সঙ্গে একটা লোভও তৈরি হয়। লোক যখন এখানেই আছে, সংখ্যা
যখন বাড়ছেই, তবে নড়ব কেন? ফেসবুকেই দিব্যি চলুক না?
সমস্যা, সওয়ালের রাজনীতি যদি কিছু থেকে থাকে, এই দিব্যি
চলার যুক্তির সঙ্গে তার বনিবনা হয় না। কী লিখব, কে দেখবেন, কতজন দেখবেন, কখন দেখবেন—সবটাই যদি অ্যালগরিদম, ‘রিচ’ আর দৃশ্যমানতার বাজার ঠিক করে দেয়, তাহলে আমরা যা করতে চাইছি সেটা গোড়াতেই
অসম্ভব হয়ে যায়। ফেসবুক শুরু করতে সাহায্য করেছে। কিন্তু সেখানেই ঘরবাড়ি সব হয়ে যাবে,
এ কথা মানা গেল না।
কাজেই কথা চলেছে। রাতদুপুরের গ্রুপ-চ্যাটে, কমেন্টের
তর্কে, কোনও লেখা ভালো চলার পরে, কোনওটা একেবারেই না চলার পরে, ইউটিউব শুরু করার ফাঁকে,
এবং একটা ভাবনা কেমন করে ধীরে ধীরে কাজের অভ্যাস হয় সেই সব ছোট-বড় ঘুরপথে। বারবার নিজেদের
জিজ্ঞেস করেছি, তৈরি তো? পুরো তৈরি হয়তো কোনওদিনই হব না। আপাতত যতটা দরকার, ততটা হয়েছি।
সওয়াল.ইন এখন চালু।
বিশেষ কৃতজ্ঞতা
তিষ্যরূপ চক্রবর্তী
