আজকের চিনা উন্নয়ন মডেলের ভিতর পুঁজিসঞ্চয়ের ধ্বংসাত্মক প্রবণতা ঢুকে আছে। বিশ্বব্যবস্থায় নিজেকে জুড়ে দেওয়ার চাপ, চিনা সমাজের প্রায় প্রতি ক্ষেত্রে পুঁজির উপস্থিতি, দেশকে পুঁজিতন্ত্রের সংকটের মধ্যেই টেনে এনেছে। তথাপি, আন্তর্জাতিক সমস্যার বড় অংশই কোনো না কোনোভাবে পশ্চিম এশিয়া প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত, প্যালেস্তাইন প্রশ্নের নিষ্পত্তি না হলে সে গিঁট খোলা যাবে না। সমস্যা জটিলতর, আরো বিস্ফোরক হয়ে উঠুক; বিশ্বে নিজেদের দখল শক্ত করা যাবে, সমরশিল্পে আরো মুনাফা হবে, কর্পোরেট পুঁজি বাড়বে।
পড়ুন →
অর্থনীতির ধীরগতি, অবারিত দারিদ্র্য, আয় ও সম্পদের বিপুল বৈষম্য, অসম্পূর্ণ কর্মসংস্থান, ক্রমশ খারাপ হতে থাকা পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র—আজকের পৃথিবীর পরিচয়চিহ্ন। সরকার ও কর্পোরেটদৈত্যদের মূল লক্ষ্য, সমাজের ওপর দখলদারি পোক্ত করতে মুনাফা বাড়ানো, বাড়িয়ে চলা। মহাঘোট মরিয়া, পুঁজিতন্ত্র ব্যর্থ—হ্যাঁ। কিন্তু পুঁজিতন্ত্র ভেঙে যাচ্ছে, ধরে নেওয়া নির্বুদ্ধিতা। ‘উদার’ গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠান ভাঙছে, পুঁজিতন্ত্রের সমর্থক বাহিনী—ডানপন্থীরা—শক্তি বাড়াচ্ছে, সংঘাত আর বর্ণবিদ্বেষ উসকে দিচ্ছে।
পড়ুন →
নাগরিকত্ব আধুনিক পৃথিবীতে সবচাইতে ক্ষমতাধর আইনি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম। ভোট ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, সরকারি সুবিধা, চলাচলের স্বাধীনতা, নিরাপদে বসবাস, রাষ্ট্রের সুরক্ষা—সবকিছুর সঙ্গেই তা সরাসরি যুক্ত। নাগরিকত্ব হারানো তো বটেই, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের মধ্যে পড়ে যাওয়ার অর্থও, মানুষের আইনি এবং অস্তিত্বগত নিরাপত্তা ভেঙে যাওয়া। শেষ পর্যন্ত ‘কে এই দেশের?’, এ প্রশ্নের উত্তর কাগজ দেয় না। প্রজাতন্ত্র যে নীতি অনুসরণ করছে, উত্তর তৈরি হয় সেখানে।
পড়ুন →
ফাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে যদি সত্যিই দীর্ঘমেয়াদি হতে হয়, প্রথম কাজ গণতন্ত্রকে ভোটের খাঁচা থেকে বার করা। গণতন্ত্রকে অভ্যাস বানানো। বিরুদ্ধতার রাজনীতি শুধু অন্য কথা বলবে না; অন্যভাবে চলার অভ্যাসও তৈরি করবে। দাবির রাজনীতি দরকার, কিন্তু দাবির গন্তব্য যদি কেবল দাতা-রাষ্ট্র হয়, মানুষ পুনরপি প্রাপক হয়ে থাকে। অর্থাৎ, প্রতি দাবি একই সঙ্গে গণতন্ত্রের দাবি। রাষ্ট্রের ক্ষমতার পাশে নয়, বিপরীতে সামাজিক ক্ষমতা।
পড়ুন →
সংগঠন মানে পার্টি হতে পারে, ইউনিয়ন হতে পারে, কমিটি, এনজিও, ফেডারেশন হতে পারে। নাম আছে, অফিস আছে, পদ আছে। সঙ্ঘায়ন অন্য ব্যাপার। মানুষকে একসঙ্গে এনে নিজেদের জীবন নিয়ে যৌথভাবে ভাবা, সিদ্ধান্ত নেওয়া, লড়াই করা শেখা। একে অন্যের ওপর ভরসা করা। ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়াবার পাশাপাশি নিজেদের সামাজিক ক্ষমতা তৈরি করা।
পড়ুন →
ভারতীয় নাগরিকত্বের ইতিহাস অতএব কখনই স্থির বা নিছক আইনের ইতিহাস নয়। সংবিধান চালুর সময়কার বিধান, ১৯৫৫-এর নাগরিকত্ব আইন, একের পর এক সংশোধন, এনআরসি ও সিএএ নিয়ে বিতর্ক—প্রতিটি পর্যায়ে ‘ভারতীয় জাতি’ বলতে কী বোঝা হবে, বৃহত্তর সেই রাজনৈতিক লড়াই আইনের ভিতরে এসে পড়েছে। কে দেশের মানুষ, কে নয়, তার আইনি সংজ্ঞাও বদলেছে রাজনৈতিক বাস্তব ও মতাদর্শগত বিরোধের সঙ্গে তাল রেখে। শেষ পর্যন্ত, প্রশ্ন শুধুমাত্র এটা নয়, কে নাগরিক হতে পারবেন।
পড়ুন →